
*ছিলেন চায়ের দোকানদার।
*এখন সারাদেশে সাপ্লাই দিচ্ছেন ইয়াবা।
*গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি।
বিস্তারিত দেখুন কক্সবাজারের রামু থেকে
আরিয়ান খানের
ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের
মাত্র চার বছর আগে যার সংসার চলতো চায়ের দোকানে কাজ করে, সে কামাল এখন কোটি টাকার মালিক।এক সময় চায়ের দোকানে কাজ করতেন যিনি,তিনি আজ বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন।থাকেন অনেক টাকার বাড়িতে আর চড়েন কোটি টাকার বিমানে।নিজের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে- ২০২২ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ঈদগড়ে জায়গা নিয়ে ঘর তৈরি করেন কামাল। পারিবারিক অভাবে চায়ের দোকানে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্ত তার ভাই ইয়াবার সাথে আগে থেকেই জড়িত থাকায়, একটা সময় কামালও যোগ দেন ভাইয়ের ইয়াবা কারবারে। এরপর থেকে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। নিজেকে পরিচয় দিতেন আওয়ামীলীগ নেতার ভাই হিসেবে। এরপর একক প্রভাব খাটিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় ইয়াবা পাচারের রুটের দায়িত্ব নিয়ে নেন। এভাবেই হয়ে ওঠেন বড় ইয়াবা কারবারি।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,গত ৪ বছর ধরে ইয়াবা কারবার করে কক্সবাজারের রামুতে ঈদগড় এর ৮নং ওয়ার্ড ছগিরাকাটা এলাকায় কয়েক লাখ টাকার জমির ওপর করেছেন টিনশেড বাড়ি, বাজারে কিনেছেন দোকান।
কয়েক বছর আগেও যিনি কক্সবাজারে ছোট একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন, আজ তিনি পরিবার নিয়ে বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করছেন। স্হানীয় মানুষদের অভিযোগ- ভাইয়ের ইয়াবার সিন্ডিকেটে যোগ দেয়ার পর কামাল রীতিমতো আলাদিনের জাদুর চেরাগ হাতে পেয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন যায়গায় ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন। আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে ইয়াবা কারবার করতেন। কিন্ত সরকার পরিবর্তনের পরেও গত রমজানে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে যাবার সময় তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন কামাল। তবে গ্রেফতার হয়েও রমজানের মধ্যেই দুই লক্ষ টাকা দিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপর কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ রাখলেও কুরবানীর ঈদ থেকে আবারো ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য দিয়েছে স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল অগ্রযাত্রাকে বলেন- আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা, আমি ব্যবসা করে টাকা ইনকাম করেছি।
স্থানীয়দের দাবি, কামালের মতো ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।