
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ময়েন উদ্দীনের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আবেদন করা হয়েছে। মাদ্রাসার সুপার এনামুল হকের কাছে মৌখিকভাবে ময়েন উদ্দীনের নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য চাইলে তিনি তা দিতে অসম্মতি জানান। পরে গত ২১ জুন উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুপার এনামুল হকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয় । আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে আবেদনটি ২১ জুন গ্রহণ করা হয়েছে। গোপন সূত্রে জানা জায়, নিয়োগপ্রাপ্ত ময়েন উদ্দীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেননি, বরং তিনি জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসায় চাকরি করছেন। সচেতন মহল বলছে রাস্ট্রিয় কোষাগার থেকে বেতন তুলছে দির্ঘদিন ধরে দেখার যেন কেউই নেই । তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আবেদনে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি, প্রার্থীর দাখিলকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, নিয়োগ বোর্ড বা নির্বাচন কমিটির কার্যবিবরণী, শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই (ভেরিফিকেশন) সংক্রান্ত পত্রাচার বা প্রতিবেদন, নিয়োগ অনুমোদনপত্র, যোগদানপত্র, স্থায়ীকরণ-সংক্রান্ত নথি, নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, এমপিওভুক্তির নথিপত্র, প্রার্থীর দাখিলকৃত সকল শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদের অনুলিপি এবং এসব সনদ যাচাই করা হয়ে থাকলে তার তারিখ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
আবেদন করার পর আইন অনুযায়ী (২০) কর্ম দিবস অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ তথ্য জবাব দেননি । গত ১৩ জুলাই সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে তথ্যর কথাবললে সুপার এনামুল হক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানান।এ সময় সুপার এনামুল হক বলেন, সার্টিফিকেট জাল কিনা আমি জানিনা, তবে সেটি যাচাই করা হয়নি। আমি বিষয়টি নিয়ে বারবার কমিটির সভা করেছি এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি না বললে আমি তথ্য দিতে পারব না। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮এর (১) উপধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত ক্ষেত্রে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে তথ্য সরবরাহ করার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান করেননি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে তিনি আইন ভোংগ করেছেন। এদিকে, স্থানীয়রা বলছে, যেখানে লেখাপড়া করেও চাকুরি মিলছেনা সেখানে ময়েন ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছে । তাদের আরও অভিযোগ, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। এছাড়া অতীতে সুপারের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও আওআামিলীগ স্বাসন আমলে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন। অভিযুক্ত ময়েন বিষয়টি শিকার করে, এবং সাংবাদিককে টাকা ঘুস দেয়ার চেস্টা করে যাতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। আবেদনকারী চাহিদাকৃত তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত বিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর চাওয়া তথ্য সরবরাহ না করায় ১৯ জুলাই মহাদেবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আপিল দায়ের করা হয়েছে।