
এক সময় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ। জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। তাঁর তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে এসেছে গতি, কমেছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত প্রদান করা হচ্ছে। অফিস চলাকালীন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত থেকে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, আগে ইউনিয়ন পরিষদে কিছু অসাধু দালাল সক্রিয় ছিল। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত। বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে একটি সাধারণ নাগরিক সনদ তুলতেও কয়েক দিন ঘুরতে হতো। এখন অনেক দ্রুত কাজ হচ্ছে এবং কর্মকর্তারাও আন্তরিক আচরণ করছেন।”
স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “আমার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য এসেছিলাম। আগে এমন কাজে অনেক ঝামেলা হতো। এবার অল্প সময়েই কাজ হয়ে গেছে।”
আরেক সেবাগ্রহীতা আব্দুল কাদের বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে এখন শৃঙ্খলা বেড়েছে। মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “দালালদের দৌরাত্ম্য আগের তুলনায় কমেছে। জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইউনিয়ন পরিষদে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা হয়রানির সুযোগ নেই। সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত ও নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক রয়েছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে সেবার মানোন্নয়নে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ ভবিষ্যতে জনগণের আস্থার প্রতীক ও একটি আদর্শ সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।