1. admin@dainikajkerkholachithi.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার ৩ কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় সভা। কুয়াশার ট্রাজেডি থেকে জেলা সংগঠনের জন্ম; যবিপ্রবিতে নীলফামারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ। বৃষ্টির বাধা আর কাদার যুদ্ধ পেরিয়ে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডিতে রানার্সআপ কাশিমপুর। ঝালকাঠিতে আইন-শৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ সভা। নরসিংদীর শিবপুরে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে জাপান প্রতিনিধি দল। নারায়ণপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক। পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ।

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র।

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৬৪ বার পঠিত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে নগরীর পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চসিক, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ১৭ মে(রোববার) নগরভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।
ডা. শাহাদাত বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।
মেয়র আরও বলেন, “আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।”
সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সক্ষমতার বাইরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আড়তদার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার অধিক চামড়া সংগ্রহ না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্নিহিত জেলা ও উপজেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন মহানগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ বন্ধে চেকপোস্ট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জকে অনুরোধ জানানো হয়।
বিগত বছরের মতো এবারও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি এবং বাইরের অতিরিক্ত চামড়া নগরীতে প্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রাখা এবং খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য দেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলমসহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক আজকের খোলা চিঠি
Theme Customized By Shakil IT Park