
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের বাজুনিয়া ইউনিয়নে মাছের ঘেরে হামলা ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আহত নাজিম খান হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক জবানবন্দিতে এবার অভিযুক্ত ইখলাসের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও সরাসরি লুটের অভিযোগ তুলেছেন।
নাজিম খানের নতুন দাবি: ঘটনাস্থলে ছিলেন ইখলাসের স্ত্রীও
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজিম খান আজ এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, গত ১২ই এপ্রিল রাতের হামলায় শুধু ইখলাস বা তার বাহিনীই নয়, বরং ইখলাসের স্ত্রী নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। নাজিম খানের দাবি, হামলাকারীরা যখন তাকে কুপিয়ে জখম করে, তখন ইখলাসের স্ত্রী নিজেই তার পকেট থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেন।
রহস্যের মূলে কি সেই ‘স্মার্টফোন’?
এই হামলার ধরনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কি ছিল ওই স্মার্টফোনে? স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য কি কেবল টাকা ছিল, নাকি নাজিমের ফোনে এমন কোনো গোপন তথ্য বা ভিডিও ছিল যা ইখলাস ও তার গ্যাংয়ের জন্য হুমকিস্বরূপ? সেই ফোনটি উদ্ধারের জন্যই কি মাঝরাতে এই দুর্ধর্ষ হামলা চালানো হয়েছিল? এই প্রশ্নটি এখন পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ইখলাসের স্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
অন্যদিকে, ইখলাসের স্ত্রী এর আগে দাবি করেছিলেন যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন এবং এই ঘটনাকে একটি ‘রাজনৈতিক খেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে নাজিম খানের নতুন অভিযোগ তার সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
পুলিশের ভূমিকা ও জনমনে প্রশ্ন
পুলিশের উপস্থিতিতে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ফোনের সন্ধানে এই হামলা—সব মিলিয়ে বাজুনিয়ার এই ঘটনাটি এখন আর সাধারণ কোনো ঘেরের কোন্দলে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একটি পরিকল্পিত অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ঘের মালিকরা এই ‘ফোন রহস্য’ এবং ‘লুটপাটের’ প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।