পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দের জোয়ার, আর সেই আনন্দের টানে চিরচেনা ব্যস্ত ঢাকা এখন এক অচেনা নিস্তব্ধতার নগরী। জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ যখন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত, তখন জনমানবহীন ঢাকা যেন একাকীত্বের চাদরে ঢাকা পড়েছে।
ফাঁকা রাজপথ: যে গুলিস্তান, ফার্মগেট বা কারওয়ান বাজার এলাকায় যানজটে স্থবির হয়ে থাকতো জনজীবন, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা। সিগন্যালগুলোতে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি, নেই হর্নের কর্কশ শব্দ।
ধানমন্ডি, বনানী বা উত্তরার মতো আবাসিক এলাকাগুলোতেও সুনসান নীরবতা। বেশিরভাগ বাসার গেটে ঝুলছে তালা, আর নিচতলায় নিরাপত্তা প্রহরীদের অলস সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে।
কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের এই সময়টা ঢাকা তার আসল সৌন্দর্য ফিরে পায়—পরিচ্ছন্ন বাতাস আর যানজটমুক্ত রাস্তা। তবে প্রিয়জন আর প্রতিবেশীদের অনুপস্থিতিতে এই সৌন্দর্য মাঝে মাঝে একাকীত্বে রূপ নেয়।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
মানুষের অনুপস্থিতিতে ফাঁকা ঢাকা যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য না হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মোড়ে মোড়ে টহল পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
“ঢাকা যেন এখন নিজের সাথে নিজে কথা বলছে। যে শহর কোনোদিন ঘুমায় না, সেই শহর এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।”