
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আল আমিন
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ছোট ব্যবসা স্থাপনে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মিলল চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা।
স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি (এসসিআই) আক্রান্ত এক রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগ। বিভাগীয় উদ্যোগে রোগী মো. মনসুর আলীর জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল শারীরিক অবস্থা। এর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগী ও তার পরিবারকে নানা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পিটিআর বিভাগ মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
এই উদ্যোগে প্রধান আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে যশোরের দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পাটয়ারী এন্টারপ্রাইজ এবং ঐশী মল্লিক ব্রিকস। তাদের এ অবদানকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পিটিআর বিভাগের প্রভাষক ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, রোগীর স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই তার জন্য একটি ছোট ব্যবসা (দোকান) স্থাপনে সহযোগিতা করা হয়েছে, যাতে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এবং আত্মসম্মান নিয়ে জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।”
আরেক প্রভাষক ডা. আহমাদুল্লাহ হিল গালিব জানান, এই রোগীর ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সুযোগ তৈরি করেছে। “সরাসরি ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি রোগীর মূল্যায়ন, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে,” বলেন তিনি।
পিটিআর বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. এহসানুর রহমান বলেন, “পুনর্বাসন শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়—এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। চিকিৎসা সেবা, সামাজিক সহায়তা এবং মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলেই রোগীর জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।” তিনি রোগীর দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন কামনা করেন।
বিভাগের এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে এলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হবে।