
জসিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার
চৌফলদণ্ডী এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বিশাল পরিসরে প্যারাবন কেটে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারির বাইরে থেকে একটি সংঘবদ্ধ মহল পরিকল্পিতভাবে বনভূমি ও প্রাকৃতিক প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের সম্প্রসারণ করছে। এর ফলে এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।
পরিবেশবিদদের মতে, চৌফলদণ্ডীর প্যারাবন উপকূল রক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই বন ধ্বংস হলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তবে এই পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। আগে যেখানে পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যেত না, সেখানে এখন স্থানীয় তরুণ সমাজকে সক্রিয়ভাবে আওয়াজ তুলতে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ, সচেতনতামূলক লেখা ও সরাসরি মাঠপর্যায়ে অবস্থান নিয়ে তারা পরিবেশ রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় এক পরিবেশ সচেতন তরুণী ২৪ এর জুলাই যুদ্ধা সাবরিনা রহিম প্রিয়া বলেন,
“এভাবে প্যারাবন কেটে ঘের করলে ভবিষ্যতে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। এখনই প্রতিহত না করলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”
এলাকাবাসী এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবিদার জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মারুফ হোসাইন বলেন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতেছি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে ।