
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:মো রোমন হায়দার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের স্বাক্ষরে অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য পাওয়ায় জেলার তিনটি নির্বাচনি আসনে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান এবং মো. কাজী জাহাঙ্গীর।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংযুক্ত স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এসব স্বাক্ষরের মধ্যে গুরুতর অনিয়ম ও অসত্যতা পাওয়া যায়।
সূত্র আরও জানায়, দৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বাক্ষর যাচাই করা হলে অনেক ভোটার জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে স্বাক্ষর করেননি। কেউ কেউ স্বাক্ষরটি নিজের নয় বলেও দাবি করেন। এসব কারণে নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন অফিস।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন,
“মনোনয়ন বাছাইয়ের প্রথম দিনে তিনটি আসনে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যাচাইয়ে ভোটারদের স্বাক্ষরে অসত্যতা পাওয়া গেছে। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার জেলার বাকি তিনটি আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আপিল করবেন কি না, তা নিয়ে এখন অপেক্ষায় রয়েছে ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।