
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আল আমিন
তড়িঘড়ি অধ্যাদেশ নয়, সংসদে আইন পাসের দাবি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটিআর বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এ বিষয়ে একযোগে স্বাক্ষর করে একটি যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, চিকিৎসা শিক্ষা–২ শাখা কর্তৃক গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা এক স্মারকের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বিএমডিসি অধ্যাদেশ নিয়ে উন্মুক্ত মতামত আহ্বান জানানো হয়। ওই স্মারকের প্রেক্ষিতে যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অধ্যাদেশের কয়েকটি ধারা বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সংশোধনের প্রস্তাব দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসাসেবা, প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও পেশাগত নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। অথচ প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ধারা ৩১(১)(খ) এবং ৩১(২) অনুযায়ী কেবল মেডিকেল ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের দেওয়া প্রেসক্রিপশন ও সনদকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং লাইসেন্সধারী রিহ্যাবিলিটেশন প্র্যাকটিশনারদের প্রেসক্রিপশন প্রদান আইনসম্মত। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে পেশাজীবীরা হয়রানির শিকার হবেন এবং হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে অপচিকিৎসা বাড়ার আশঙ্কায় দেশের প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।
এছাড়া প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ধারা ২৮ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নিয়ে বিদ্যমান সংবিধিবদ্ধ সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভাগের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এলোকেশন অব রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী অধ্যাদেশের কিছু ধারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বিএমডিসির একক এখতিয়ারভুক্ত নয়। সংশোধন ছাড়া তা বিধিভুক্ত হলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের পদবি সংক্রান্ত একটি রিট মামলা এখনও হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
সবশেষে প্রায় ১০ হাজার পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী এবং দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে প্রস্তাবিত বিএমডিসি অধ্যাদেশটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশ আকারে না এনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদে আইন হিসেবে পাসের আহ্বান জানান তারা।