
জুলহাজ খাঁন (নওগাঁ) :
নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কসবা গ্রামের খলিলুরের ছেলে রাসেল চাকরির পাশাপাশি কৃষিকে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়ে সাফল্যের নজির গড়েছেন এই তরুণ। ২৫ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে ইতোমধ্যেই লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদেরও কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।
সবুজে ঘেরা নওগাঁর এক গ্রামে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে কাঁচা ও পরিপক্ব পেঁপে। এই বাগানের মালিক রাসেল। পেশায় একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হলেও কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা জমিতে শুরু করেন পেঁপে চাষ। নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিশ্রমে এখন তার বাগানে মিলছে আশানুরূপ ফলন।
রাসেল বলেন, “চাকরির পাশাপাশি আমি কৃষিকাজ করি। প্রায় এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছি। শুরুতে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় পেঁপে বিক্রি করেছি এবং ভালো লাভও হয়েছে।”
রাসেলের কর্মব্যস্ততার সময়ে বাগানের পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তার বাবা ও স্ত্রী। নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ এবং গাছের পরিচর্যার মাধ্যমে তারা বাগানটিকে উৎপাদনশীল করে তুলেছেন। পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এসেছে এই সাফল্য।
রাসেলের স্ত্রী মিতালি বলেন, “আমরা সবাই মিলে বাগানের যত্ন নিই। নিয়মিত পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। পেঁপে বিক্রি করে সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে।”
এ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ দফায় পেঁপে সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন রাসেল। অনেক সময় জেলার বাইরের পাইকাররাও সরাসরি বাগানে এসে পেঁপে কিনে নিয়ে যান। এতে বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্য দামও পাচ্ছেন তিনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত জাতের চারা, সঠিক সেচ, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে পেঁপে চাষ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। স্বল্প জমিতে অধিক ফলন এবং সারা বছর বাজারে চাহিদা থাকায় এটি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।
পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফোলেট, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হজমশক্তি উন্নয়ন, চোখের সুস্থতা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে পেঁপে চাষ যেমন কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে, তেমনি মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও অবদান রাখছে।
চাকরির পাশাপাশি কৃষিকে নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়ে সফল হয়েছেন রাসেল। তার এই উদ্যোগ শুধু পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং এলাকার অন্যান্য তরুণদেরও আধুনিক কৃষির প্রতি উৎসাহিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে পেঁপে চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও উন্নয়ন হবে