
বিশেষ প্রতিনিধি।
মানিকগঞ্জে যুবদল নেতাকে মারধর সহ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ রা জুন বুধবার দুপুরে উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বারান্দায় একটি পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যান, সচিবের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মোল্লা শাহিনের ঘনিষ্ঠ কাইয়ূম মোল্লা, মুকুলসহ কয়েকজন এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিশে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদ সহ সহযোগীরা বেধড়ক মারধর করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে।
পরবর্তীতে কাজী সালাউদ্দিন শিমুল বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সর্বমহলে তোলপাড় ও ক্রোপ প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ ব্যাপারে যুবদল নেতা কাজী সালাউদ্দিন শিমুলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন কাজী সালাউদ্দিন শিমুল।
সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম মোল্লা উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের মো. খোরশেদ মোল্লার ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়,কাইয়ুম মোল্লা বয়ড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদ উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের হাসান মিয়ার ছেলে।
অনিক আহমেদ বয়ড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় ।
ক্ষমতাসীন দলের পতনের পর পর ই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন (মোল্লা শাহিন) এর ঘনিষ্ঠ সহচর ও ছত্র ছায়ায় নানা অপকর্মে মদদ দেওয়া সহ এলাকায় প্রভাব বিস্তার খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ হয়রানি হুমকি ধামকিরও অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদের বিরুদ্ধে ।এমনকি তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
২২ মার্চ ২০২৬ ইং এ পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু স্কুল উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম খান তারেক এর ছোট পুত্র আদিব খানের সাথে বাগ দন্ডে লিপ্ত হয়ে প্রথমে ধাকাধাক্কি ও মারধর করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের একনিষ্ঠ সহচর যুবলীগ নেতা কাইয়ুম ও সহযোগীরা।
পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন( মোল্লা শাহিন) এর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদ সহ তাদের গ্যাং সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম খান তারেক এর ঘরবাড়ি ভাংচুর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেন।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম খান তারেক জানান,তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন (মোল্লা শাহিন) এর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদ সহ তাদের গ্যাং আমার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন এবং আমাকে নানাবিধ হুমকি ধামকি ও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,২০২২ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ২০২৫ ইং এ যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও ১৫ই ফ্রেবুয়ারী ২০২৬ ইং এ উপজেলার সট্টি এলাকায় খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় ২ জন জুলাই যোদ্ধা ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল খান রতন এবং জুলাই যোদ্ধা ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খান লিংকন কে বেধড়ক মারধরের ঘটনার অভিযুক্ত আসামী ছিলো যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা। যাহার মামলা নঃ ০২।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন (মোল্লা শাহিন) এর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম মোল্লা ও তার সহযোগী বয়রা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অনিক আহমেদ কয়েক মাস আগে হারুকান্দি ইউনিয়নের জালসা গ্রামের শুকুর আলী নামের একজন নিরীহ কৃষকের কাছ থেকে ড্রেজার দিয়ে নিজস্ব পুকুর কাটাবাবদ জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা সহ নানাবিধ হুমকি ধামকি এমনকি শেষ পর্যন্ত আন্ধারমানিক যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন (মোল্লা শাহিন) এর অফিসে এনে বেধড়ক মারধর করেছেন এবং এঘটনায় মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেন।
এ বিষয়ে হারুকান্দি ইউনিয়নের জালসা গ্রামের কৃষক শুকুর আলী বলেন,আমার কাছ থেকে পুকুর কাটাবাবদ জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং দিতে অস্বীকার করলে অফিসে ঢেকে বেধড়ক মারধর করেছে মোল্লা শাহিনের একনিষ্ঠ ঘনিষ্ঠ সহচর কাইয়ুম মোল্লা ও অনিক আহমেদ এবং তার সহযোগীরা। আমাকে মোল্লা শাহিনের লোকজন এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি ধামকি দেন।
চালা ইউনিয়নের আব্দুল খালেক মেম্বার জানান,পরিষদের একটি রাস্তার কাজে বাবদ জোরপূর্বক উপজেলা হতে কাইয়ুম মোল্লা ও সহযোগীরা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ভয়-ভীতি দেখিয়ে ১ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার ব্যপারে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু শাহাদাত মোঃ শাহিন (মোল্লা শাহিন) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,চাঁদাবাজির বিষয়টি আমি অবগত নেই কিন্তু মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা অনিক আহমেদ ৫ ই আগস্টের পর পর ৭ জানুয়ারি বিশৃঙ্খলার দায়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন একাধিক প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।এমনকি মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামের ভেরিফাই ফেইসবুক থেকে বয়ড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিক আহমেদ ছাত্রলীগের নেতা আখ্যায়িত করে নিঃশর্তে মুক্তির দাবি জানান।
মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, সালিশ বৈঠক চলাকালীন উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরবর্তী মারধরের ঘটনা ঘটে।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আব্দুল বাসেদ বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৈঠক চলছিল। একপর্যায়ে কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বৈঠকটি আর হয়নি।
অপরপক্ষে চাঁদাবাজির বিষয়ে কাইয়ুম মোল্লা ও অনিক আহমেদ কে একাধিকবার মুঠোফোনে জানতে চাওয়ার চেষ্টা করলেও কোন পাত্তা পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু মুঠোফোনে আরো বলেন,যুবদলের সদস্য’র ওপর অতর্কিত হামলা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সাংগঠিক প্রক্রিয়ায় এ ঘটার তদারকি চলছে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন যদি আদৌও এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তাহলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন,গ্রাম আদালতের বিচার কে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে।চাঁদাবাজির অভিযোগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত কেউ দায়ের করেনি।
জুলাই যোদ্ধাদের মারধরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আরো বলেন,১৫ ই ফ্রেবুয়ারি ২০২৬ ইং এ সট্রি এলাকায় খেলাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি কেন্দ্রিক মামলা হয়েছিলো।