
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের এক ইন্টার্ন শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত প্যাব নেতা ওয়াসিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আল আমিন। এই ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও ভয়ের আশঙ্কায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
একইসঙ্গে অভিযুক্ত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের ফিজিওথেরাপি পেশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোরও অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে তিনি ‘ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (প্যাব)-এর নেতা দাবি করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি মূলত এই সংগঠনের কোনো অনুমোদিত সদস্যই নন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওয়াসিউর রহমান কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে পাস করার পর বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোনো প্রকার যোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে ভর্তি হয়ে ফিজিওথেরাপি ডিগ্রি অর্জন করেন। এই অনৈতিক ভর্তি এবং সনদ প্রাপ্তির বিষয়টি বর্তমানে ফিজিওথেরাপি প্রফেশনালদের মাঝে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে তার এই অবৈধ সার্টিফিকেট বাতিলসহ অন্যান্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার এই ডিগ্রির আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
বর্তমানে এই ফ্যাসিস্ট চক্রের সদস্য ওয়াসিউর রহমান ‘প্যাব’ নামক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, যা বর্তমান সরকারের সুনাম নষ্ট করার এক গভীর পায়তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি যবিপ্রবির ইন্টার্ন শিক্ষার্থী আল আমিনকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকি দেওয়ায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আল আমিন এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনকে (বিপিএ) মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত স্বঘোষিত প্যাব নেতা ওয়াসিউর রহমানের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
যবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই ভুয়া নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।