
জুলহাজ খাঁন নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আত্রাইয়ের ১২ ও নওগাঁ সদরের একজন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলার এবং একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। নিহতরা আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২), তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২) এবং মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০)। এছাড়া নওগাঁ সদর উপজেলার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন(৩৮) এর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলা ছাড়াও নাটোরের নলডাঙ্গা এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতেন।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
নিহত ফরিদ শেখের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের বরাত দিয়ে জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার শ্রমিকেরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। দিনের বেলায় শ্রমিকেরা ঘুমিয়ে থাকতেন এবং রাতে কাজ করতেন। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগায় তাঁরা বের হতে পারেননি বলে জানান তিনি।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।