1. admin@dainikajkerkholachithi.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার ৩ কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় সভা। কুয়াশার ট্রাজেডি থেকে জেলা সংগঠনের জন্ম; যবিপ্রবিতে নীলফামারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ। বৃষ্টির বাধা আর কাদার যুদ্ধ পেরিয়ে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডিতে রানার্সআপ কাশিমপুর। ঝালকাঠিতে আইন-শৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ সভা। নরসিংদীর শিবপুরে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে জাপান প্রতিনিধি দল। নারায়ণপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক। পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ।

সম্পাদকীয়: জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থের জয়—না, দেশের স্বার্থ যেন জয় করে।

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৪ বার পঠিত

মনিরুল ইসলাম,
কুমিল্লা প্রতিনিধি :-

মৃত্যু কষ্টের — অপঘাতের মৃত্যু বিশেষত কষ্টদায়ক। আজকের বাংলাদেশ দেগেছে এক অপঘাতে: নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা এক ভূতুড়ে রাজনীতি, আর সেই রাজনীতির বলি হয়েছে যুব ও আদর্শ। আমরা দেখেছি বিজয়; একই বিজয়ের স্মৃতিই তো আমাদের কখনও ভুলতে দেয় না। কিন্তু আজ যে বিজয়ের স্মৃতি থেকে বরাবরই আশাব্যঞ্জক তরুণেরা সঞ্চার পেয়েছে — তাদেরই নাম ধরে বলা যায়: জুলাই যোদ্ধারা — সেই তরুণদের রাজনৈতিক জীবনের করুণ বিকাশ আজ আমাদের সবার বিবেক কাঁদায়।

যে তরুণেরা নিজেদের আখ্যানটাকে দেশপ্রেম, নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের এক নৈবচাষী হিসেবে ধরেছিল — তাদেরই ব্যবহার করে অল্প কিছু কৌশলবিদ অচিরে তাদের আত্মশক্তি সুন্দরভাবে ক্ষয় করে ফেলেছে। ক্ষমতা ও অর্থের লোভ দেখিয়ে, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজস্ব লোক দলিয়েই প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এমন একটি কৌশল রচিত হয়েছে যে, দেখতে দেখতে জনবহুল আন্দোলন থেকে একটি ডি-ফ্যাক্টো ক্ষমতার উত্থান ঘটে গেছে — এবং সেটি ওই তরুণদের আগ্রাসী স্বপ্নকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।

“পিআর” — একটি সংক্ষিপ্ত নাম, কিন্তু নেপথ্যে যে কৌশল কাজ করেছে তার রূপরেখা জটিল: প্রচারিত হয়েছে — এটা হবে নতুন গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ; কিন্তু বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক শক্তি পুনর্বিন্যাসের এক হাতিয়ার। কোটা, প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন—এসব শব্দের আড়ালে যে রাজনীতিকজনিত অপব্যবহার চলছে, তা অনেকে ধরতে পেরেছেন। কোটা ছিল ক্ষমতার একটি সংরক্ষণাগার, পিআর যদি জনসমর্থন ছাড়াই বিতরণযোগ্য হয়ে ওঠে — তাহলে সেটি যে কারও হাতেই ক্ষমতা পোক্ত করে দিতে পারে। আর আজ মনে হচ্ছে, সে পথটাই নেয়া হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধারা—যারা আবেগে ভর করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যারা অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদদের মতো ছক-চিত্‌কারি কলাকৌশল বুঝতে পারেননি—তাদেরকেই একা রেখে দেওয়া হয়েছে। যারা তাঁদের রাজনৈতিক অভিভাবকত্বের বস্তাপচা ব্যাজ ধারণ করেছিল, তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ সেই তরুণদের সরিয়ে দেয়ায় তৎপর হয়েছে। এতে দায় যত অপর পক্ষের, ততই দায় আমাদের রাজনৈতিক সচেতন সমাজেরও — যে আমরা ওই তরুণদের প্রশ্ন করতে, খুঁজা দেখতে শেখাতে ব্যার্থ হয়েছি।

এরই ফল হলো: বিরূপ অভিযোগ, চরিত্রহানির অভিযোগ, আর সবচেয়ে বড়টি — তরুণদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল। তাদের মূল্যবান রাজনৈতিক শক্তি কিভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে; কিভাবে তাদেরই ভেতর থেকে তৈরি করা সনদই তাদের কাছে পরিত্যক্ত করা হলো — তা আমাদের চোখে কষ্ট হয়ে ধরা দেয়। আর যদি এসব চালের পেছনে উদ্দেশ্য থাকে নির্বাচন নিষ্প্রভ করা, দেশের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার — তাহলে তা হবে এক ভয়ংকর প্রেক্ষাপট।

তবু আশা ছাড়তে নয়। জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো দল যাই করুক—জুলাই যোদ্ধাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব একদমই সম্পূর্ণভাবে মোচনযোগ্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের লক্ষ্যের মধ্যেই আছে — একটি MADE IN BANGLADESH রাজনীতি, যেখানে তরুণেরা নিজস্ব ভাবনার শক্তিতে মঞ্চ পাকাবে। তাই আজ যে যোদ্ধারা ভুল পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আমরা — সমাজ, পরিবার, রাজনীতি ও মুক্তচিন্তার মানুষরা — হাত বাড়িয়ে দেব। ভুলগুলো মুছে ফেলতে হবে; নবচেতনায় ফিরতে হবে; আর সবচেয়ে বড় কথা — “আবার তোরা মানুষ হ” — মানে, আদর্শ, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা আর জনস্বার্থকে কাজে লাগাতে হবে।

সম্পাদকীয় উপসংহার: রাজনীতিতে তরুণদের ব্যবহার করা যাবে — কিন্তু তাদের আত্মসম্মান, স্বাধীন বিবেক আর দেশের কল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিচয় ছিনিয়ে নেয়া যাবে না। আমরা চাই একটি রাজনীতি যেখানে তরুণেরা নির্ভয়ে অংশ নেবে, যেখানে তাদের উদ্যোগগুলো কেবল ব্যক্তি ও দলীয় লাভের জন্যই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও প্রগতির জন্য কাজে লাগবে। যারা আজ তাঁদের ব্যবহার করেছে, তাদের সামনে একটি আদেশ: ফিরে যাও; যুবসমাজকে তাদের জায়গায় ছুঁড়ে ফেলা বন্ধ কর। আর যুবসমাজকেও প্রেরণা দেব — নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নাও, সংগঠিত হোও, আর সর্বাগ্রে মানুষ হও।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক আজকের খোলা চিঠি
Theme Customized By Shakil IT Park