
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আল আমিন
পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে সোমবার (২০ জুলাই) এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় যে পরিমাণ অক্সিজেন ব্যবহার করেন, তার সমপরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদনে প্রায় ৭০টি গাছের প্রয়োজন হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত জীবনে অন্তত ১০০টি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, যবিপ্রবি শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; প্রতিটি চারার নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসেও বৃহৎ পরিসরে সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, বৃক্ষরোপণকে মৌসুমি কর্মসূচি হিসেবে না দেখে এটি একটি ধারাবাহিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে বছরজুড়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সরকারের নির্ধারিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিমগাছের একটি চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য। পরে পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য এবং অতিথিরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফলজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মরিয়াম জামিলা, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিন, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফারজান নাসরিন, প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান, প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন, পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল হক, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন, কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ নওশীন আমিন শেখ, সদস্য-সচিব মোহাম্মদ রিয়াজুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য ড. মো. সাব্বির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে দায়িত্বশীলতা তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে।