
সাভার প্রতিনিধি
রাজনীতি অনেকের কাছে কেবল ক্ষমতার পথ নয়; এটি আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। সেই সংগ্রামী ধারার একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ঢাকা জেলার উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সজিব রায়হান। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক জীবন। রাজপথই যেন তার জীবন, আর রাজপথেই যেন হয় তার মরণ।
“রাজপথ আমার জীবন, রাজপথই যেন হয় আমার মরণ”—এই বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। দল ও আদর্শের প্রতি অটুট নিষ্ঠা থেকে তিনি দেশবাসী, রাজনৈতিক বড় ভাই, সহযোদ্ধা এবং কর্মীদের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেছেন।
ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে যখন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, তখন সজিব রায়হান মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের প্রত্যয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে মিছিল করেন।
সে সময়ের প্রতিবাদী কর্মসূচিতে তার সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজপথের পরীক্ষিত এই সংগঠক বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় সাভারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। সাভারের থানা রোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পুলিশের বাধা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও তিনি রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।
সে সময় শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণের মধ্যেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন সজিব রায়হান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত হওয়ার সেই মুহূর্তের ছবি এবং রাজপথে তার সক্রিয় উপস্থিতির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যা তার রাজপথে সক্রিয় থাকার স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করেন।
আহত হওয়ার পরও তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে সরে দাঁড়াননি। সুস্থ হয়ে আবারও রাজপথে ফিরে এসে মিছিল, মিটিং ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। রাজপথের আন্দোলনের সময় তার নেতৃত্বে অসংখ্য মিছিল ও কর্মসূচি সংগঠিত হয়েছে, যার অনেক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন সজিব রায়হান। আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন মুহূর্তে তার সাহসী ভূমিকা ও ত্যাগী উপস্থিতি অনেক তরুণ কর্মীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, দুঃসময়ে দলের জন্য যে সাহস, ত্যাগ ও নিষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, তা বিরল দৃষ্টান্ত। পরিবার-পরিজনের সময় ত্যাগ করেও দীর্ঘ সময় তিনি রাজপথে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।
ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, এমন কঠোর পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত সংগঠকের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তাদের মতে, নেতৃত্বের সুযোগ পেলে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রাজনীতির অঙ্গনে সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের যে ধারাবাহিকতা সজিব রায়হান দেখিয়েছেন, তা তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে একজন পরীক্ষিত ও সাহসী সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে নতুন শক্তি ও গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।