
অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ; ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল প্রশাসন
যবিপ্রবি প্রতিনিধি: আল আমিন
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত কয়েকজন যুবকের প্রবেশ করে নারী শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ অডিও যুক্ত করে টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন বহিরাগত যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে শিক্ষার্থী পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে নারী শিক্ষার্থীদের অগোচরে বিভিন্নভাবে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও সম্পাদনা করে তাতে আপত্তিকর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তাই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং অভ্যন্তরীণ এলাকায় নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দ্রুত অপসারণেরও দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের উদ্যোগ
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে মিটিং করা হয়েছে এবং আনসারসহ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রক্টর জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর অভিযুক্তরা ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমি নিজেই মনিটরিং করছি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধানে আসা সম্ভব হবে।”
এদিকে, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।