রিপোর্টোর: মোনতাহেরুল হক আমিন : বাঁশখালী প্রতিনিধি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জটিল পরিস্থিতিতে মো. সাইফুল ইসলাম বাঁশখালী থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টানা পনের মাসের কর্মযাত্রায় তিনি বাঁশখালীকে দিয়েছেন দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সদ্য তিনি টেকনাফ মডেল থানায় বদলি হয়েছেন, তবে তাঁর কর্মচিহ্ন বাঁশখালীর মানুষ সহজে ভুলবে না।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাদারিত্বের পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গুণ ছিল—অমায়িক ব্যবহার, সবার প্রতি সম্মান দেখানোর মানসিকতা এবং মানুষের কথা ধৈর্য নিয়ে শোনার সক্ষমতা। সীমাবদ্ধতা ও জটিল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি বাঁশখালীকে স্থিতিশীল রাখতে যে আন্তরিক চেষ্টা করেছেন, তা আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতারও চাইতে বড়। আমরা ইন্টার্নালি অনেক কিছু জানি- যা সাধারণ মানুষের অজানা—কীভাবে তিনি দৃঢ় ও শান্ত নেতৃত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামলেছেন।
সাম্প্রতিক দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন সময় আহুত ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা মোকাবিলায় তিনি যে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। রাত-বিরাতে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যেত- দায়িত্বের এমন নিবেদিত উদাহরণ সচরাচর দেখা যায় না। নিরন্তর দৌড়ঝাঁপ, চাপ আর টানা নির্ঘুম ডিউটির ফলে একসময় তিনি অসুস্থও হয়ে পড়েন, তবে দায়িত্বপালনে তাঁর মনোভাব কখনো শিথিল হয়নি।
মানুষ মাত্রেই ভুল–ভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই- ভালো মানুষ ও ভালো কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করলে রাষ্ট্র ও জনগণ উভয়ই উপকৃত হয়।
বাঁশখালীর পনের মাসের স্মরণীয় ও মানবিক সেবার জন্য মো. সাইফুল ইসলাম অবশ্যই সম্মানের দাবিদার।
আপনার নতুন কর্মস্থল হোক সুন্দর, সুগম ও সফলতার আলোয় উজ্জ্বল- এই শুভকামনা।