
বাকিরুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মেঘারবাড়ি শাখা অফিসের একাধিক গ্রাহক বীমার টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগের তীর জেলা ইনচার্জ এরশাদ এবং মাঠকর্মী আল-আমিন ওরফে রতন ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কম মেয়াদের বীমার কথা বলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সময়মতো জমা না দেওয়া এবং বীমা গ্রাহক মারা গেলে কিংবা বীমা চালাতে অপারগতা প্রকাশ করলে টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
শ্যামপুর-নয়ানগর এলাকার মুক্তেল ব্যাপারীর ছেলে মনো ব্যাপারী জানান, রতন নামে এক মাঠকর্মী তাকে বীমা করিয়েছেন। বর্তমানে তিনি গ্রাহকদের কোনো খোঁজখবর নেন না এবং যোগাযোগ করা হলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন। তার পরিবারের সদস্যদের নামে ছয়টি বীমা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মনো ব্যাপারীর দাবি, নিজের নামে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, মেয়ে মুক্তার নামে ৮ হাজার ৫০০ টাকা, ছেলের বউ জোসনার নামে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, স্ত্রী হোসনার নামে বছরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ও মাসে এক হাজার টাকা করে এবং ছেলে বাবুলের নামে মাসে এক হাজার টাকা করে বীমা করা হয়েছে। তিনি বীমার টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
জরিনা নামে এক নারী অভিযোগ করেন, রতন তাদের অনেকটা জোর করেই বীমা করিয়েছেন। তিনি ও তার ফুফু ফুলমতি মাসে এক হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। তাকে ১১ বছর বীমা চালানোর কথা বলা হলেও পাঁচ বছর পর ৫০ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা অজুহাত দেখান।
মেঘারবাড়ি এলাকার মুছা জানান, তিনি বছরে ৯ হাজার টাকা করে তিনটি কিস্তি দিয়েছেন। এরপর থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। বীমার বিষয়ে ভালো-মন্দ কোনো তথ্যও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিরন নামে আরেক নারী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে রতন তার স্বামীর নামে বীমা করার জন্য ৪ হাজার টাকা নেন। তবে কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেলেও এখন পর্যন্ত বীমার টাকা পাওয়ার কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি।
একই এলাকার নুর ইসলামের স্ত্রী ফুলেছার নামে ২৫ হাজার টাকার বীমা করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে ফুলেছা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বীমার টাকা ফেরত চাইলে তাদের এক অফিস থেকে অন্য অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এরশাদ ও মোস্তাফিজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে জামালপুর জেলা চিফ ইনচার্জ এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রতন মাঠে কাজ করেন। তিনি যদি কোনো গ্রাহকের টাকা জমা না দিয়ে থাকেন, তাহলে এর দায় তার। গ্রাহকদেরও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। রতনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত পরিচালক হাসান বলেন, এসব ঘটনার বিষয়ে তার জানা নেই। কোনো গ্রাহক মারা গেলে কিংবা বীমা চালাতে অপারগতা প্রকাশ করলে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে টাকা উত্তোলন করা যাবে।