
বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় দিনব্যাপী একাডেমিক গবেষণা, স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে মাগুরা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় মাগুরা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী-এর সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এরপর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন। পাশাপাশি মহম্মদপুর উপজেলার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহও পরিদর্শন করেন, যা তাদের কমিউনিটি মেডিসিন শিক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
এবারের গবেষণার মূল বিষয় ছিল বয়স্ক নারীদের মেনোপজ (রজঃনিবৃত্তি) পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যগত জটিলতা। গবেষণার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন, অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। এতে স্থানীয় নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মো. আবু আহসান-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. কামরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, প্রফেসর ডা. আব্দুল হাই, প্রফেসর ডা. শাহাজাদ সেলিম, সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফুজ্জামান, প্রভাষক ডা. রাজিয়া সুলতানা মাহমুদ এবং প্রফেসর ডা. যুথী সরকারসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, “একজন চিকিৎসকের জ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার মানবিক আচরণও সমান প্রয়োজনীয়। রোগীরা চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার থেকে অনুপ্রাণিত হন। তাই শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি, সংস্কৃতিবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত এ ধরনের মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের এমন মাঠভিত্তিক গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখ