
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (বাঞ্ছারামপুর) প্রতিনিধি :মোহাম্মদ রোমন হায়দার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আশ্রাফবাদ গ্রামে সোহেল মিয়া (২৮) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সোহেল ওই গ্রামের ছাফত আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সোহেল মিয়া ঘুম থেকে না উঠায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মডেল থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই সানোয়া প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বাবা ছাফত আলী জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সন্ধ্যার সময় খালে মাছ ধরতে গিয়ে জ্বর অনুভব করার পর থেকেই সোহেলের মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে শিকল দিয়েও বেঁধে রাখতে হতো। পরে ২০২২ সালের ৬ জুন থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা মানসিক হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ডা. আনজুমান-ই-ফৈরদোসের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলে। এছাড়াও হোমনা ও বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”