
বর্ষা খাতুন সিলেট প্রতিনিধি।।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ—প্রকৃতির অপরূপ সাজে ঘেরা দুটি জেলা। একদিকে পাহাড়-পর্বত, অন্যদিকে চা-বাগানের সবুজ বিস্তার—এই দুই মিলেই গড়ে উঠেছে অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক স্বর্গভূমি। ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য সিলেট-সুনামগঞ্জ যেন এক অনন্য গন্তব্য।
সুনামগঞ্জের পাহাড়ি জনপদে দাঁড়িয়ে দূরে তাকালে দেখা যায় মেঘের আস্তরণ, নিচে নীলচে পানি আর সবুজে ঘেরা উপত্যকা। টাঙ্গুয়ার হাওর, বারিক টিলা, জাদুকাটা নদী, সীমান্তঘেঁষা পাহাড় মানুষকে মুগ্ধ করে। বর্ষায় এই সবুজ পাহাড় ঘিরে ঝর্ণার কলকল ধ্বনি ভ্রমণকারীদের মন কাড়ে।
অন্যদিকে সিলেট বিশ্বখ্যাত তার চা-বাগানের জন্য। মালনীছড়া, লাউয়াছড়া, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে বিস্তৃত সবুজের সমারোহ চোখ জুড়িয়ে দেয়। ভোরে যখন শ্রমিকরা মাথায় ঝুড়ি নিয়ে চা পাতা তুলতে বের হয়, তখন বাগান ভরে ওঠে এক অন্যরকম দৃশ্যে। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এ অঞ্চলের চা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে।
দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক প্রতিবছর এই দুই জেলায় ভিড় জমায়। বিশেষত শীতে ভ্রমণপ্রেমীরা এখানে এসে উপভোগ করেন পাহাড়, হাওর, নদী আর চা-বাগানের মায়াবী পরিবেশ। পর্যটকরা জানান, প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকার অনুভূতি দেশের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিলেট-সুনামগঞ্জের পাহাড়-চা বাগান ঘিরে আরও পর্যটন সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।