1. admin@dainikajkerkholachithi.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার ৩ কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় সভা। কুয়াশার ট্রাজেডি থেকে জেলা সংগঠনের জন্ম; যবিপ্রবিতে নীলফামারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ। বৃষ্টির বাধা আর কাদার যুদ্ধ পেরিয়ে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডিতে রানার্সআপ কাশিমপুর। ঝালকাঠিতে আইন-শৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ সভা। নরসিংদীর শিবপুরে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে জাপান প্রতিনিধি দল। নারায়ণপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক। পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ।

খুলনা রূপসা ঘাটে পারাপারের নিয়ম ভঙ্গ: সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভ, মাঝিদের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ১১৮ বার পঠিত

মোঃ নাঈমুজ্জামান শরীফ

খুলনার রূপসা নদী, বিশেষত পূর্ব রুপসা ও পশ্চিম রুপসা ঘাট এলাকায় সম্প্রতি পারাপারের চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল, একটি ট্রলার থেকে পড়ে যাওয়া শিশু আবু রায়হান (৬) নামক শিশুর মৃত্যু স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটি একমাত্র ঘটনা নয়, গত বেশ কিছু বছর ধরেই রূপসা ঘাটের এই পারাপারের পথে ঘটছে দুর্ঘটনা, যাদের অধিকাংশের কারণ ঘাটের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাঝিরা। অবৈধভাবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, পারানি আদায় ও সঠিক নিয়মের প্রতি অবহেলা এবং জনস্বার্থে কোনো সচেতনতা না থাকার কারণে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘাটের এই পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের প্রশ্ন হল—মাঝিদের ক্ষমতার উৎস কোথায়? কেন এই অবস্থা চলতে থাকছে, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না?

রূপসা ঘাটের পারাপারে নিয়মের শাসন দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। ঘাটে সাধারণত ছোট ট্রলারে ২৫ জন এবং বড় ট্রলারে ৪০ জন যাত্রী নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবিকভাবে, মাঝিরা ছোট ট্রলারে ৪০ জন, বড় ট্রলারে ৫০-৬০ জন পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে। এই অতিরিক্ত যাত্রীবহন যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, এমনকি ছোট শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।

এছাড়া, পারানি আদায়ও চলছে অবৈধভাবে, যেখানে সরকারের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই পারানি আদায়ের কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই মাঝিদের কাছে, তবে তারা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশে একাধিক বছর ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

যদিও রূপসা ঘাটের মাঝিরা আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে অবাধে পারাপার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের পিছনে কি রাজনৈতিক ছত্রছায়া আছে? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যা স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তোলার চেষ্টা করছে। কিছু সূত্র মতে, মাঝিরা সরকারের বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে। কিছু সময় আগে পর্যন্ত আওয়ামী লীগে ছিলেন, তবে বর্তমানে বিএনপির সাথে যুক্ত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মাঝিরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে চলেছে। এতে বুঝা যায় যে, তাদের ক্ষমতা মূলত রাজনৈতিক সান্নিধ্য এবং দলের সমর্থনে নির্ভরশীল।

এই অব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনার ফলে সাধারণ জনগণ চরমভাবে ক্ষুব্ধ। এক যুবক গতকাল পারাপারের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় জনগণ এখন আর নির্বিকার থাকতে চায় না, তারা তাদের নিরাপত্তা এবং পারাপারের নিয়মিত রক্ষা চাইছেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় প্রশাসন এই অব্যবস্থাপনা সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না? জনগণ জানতে চায়, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?

রূপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা এবং মাঝিদের অবাধ দৌরাত্ম্যের মূল কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অমনোযোগিতা। সঠিক নজরদারি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং ঘাটে চলমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, নাহলে ভবিষ্যতে আরো প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এখন সময় এসেছে, জনগণ এবং প্রশাসন একযোগে কাজ করে এই সমস্যার সমাধান বের করার।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক আজকের খোলা চিঠি
Theme Customized By Shakil IT Park