
জসিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার
ঈদগাঁও উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এতে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যও। রাত হতেই চলাচল শুরু করে মাটি ভর্তি লড়ি ও ড্রাম ট্রাক, এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গেছে, ঈদগাঁও মাইজপাড়া, জালাবাদ, পোকখালী, ইসলামাবাদ, এলাকার কৃষি জমি গুলো থেকে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে মাটি। আগে বিচ্ছিন্ন ভাবে এই ধরনের মাটি কাটা হলেও সম্প্রতি তা বেড়েছে কয়েক গুণ। এসব মাটির যাচ্ছে ইটভাটা সহ অন্যান্য কাজে। এরই মধ্যে শতাধিক একর কৃষি জমি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
সরেজমিনে উপজেলার ঈদগাঁও, মাইজপাড়া, জালাবাদ, পোকখালী, ইসলামাবাদ, দেখা গেছে, ফসলি জমি থেকে প্রতিদিনই মাটি লুট করা হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে কোথাও ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এসব গর্তে পাশের কৃষি জমির মাটিও ভেঙে পড়ছে। অধিকাংশ কৃষক ভয়ে বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করছেন।
ঈদগাঁও উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, মালিবন্দের কয়েকটি স্থানে একাধিক ভেকু সন্ধ্যা থেকে সারারাত কাটা হয় কৃষি জমির মাটি। তবে এ কাজের জন্য এলাকার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তাদের নিয়োগ করা লোক পাহারা দেয়। প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালালে তাদের ওই পাহারায় থাকা লোকেরা খবর দিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তারা সব কিছু রেখে তারা পালিয়ে যায়।
উপজেলার পোকখালীর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাইজপাড়া, জালাবাদ, পোকখালী, ইসলামাবাদ, রাতের আঁধারে মাটি কাটার কয়েকটি চক্র কৃষি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে পাশের কৃষি জমির মাটি নদী ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঈদগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল রানা জানান, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটির জৈব উপাদান থাকে। সেই মাটি কাটা হলে জমির ওই উপাদান চলে যায়। এতে জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়। ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির জানান, আমি মাত্র কয়েক দিন হয় এ উপজেলায় যোগদান করছি। গত ১০ ডিসেম্বর অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয় এবং আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।