1. admin@dainikajkerkholachithi.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মেলান্দহ অফিস সময় মানছেন না খাদ্যা কর্মকর্তা। মেলান্দহে খাদ্যবান্ধব চালের ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবী। বালীগাঁও মধ্যপাড়া যুব সমাজের উদ্যেগে বালীগাঁও প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট বিপিএল সিজন -৫ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত পোরশায় জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা। ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন শংকর দাস পবন, স্টাফ রিপোর্টার তাহিরপুরে পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন ডিমলায় কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার প্রত্যয়ে যুব দিবস উদযাপন। ভালুকায় জাতীয় যুব দিবস: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন প্রত্যয়। “নরসিংদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন” বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেও ওড়েনি জাতীয় পতাকা রাজশাহীর সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৪ বার পঠিত

তন্ময় দেবনাথ রাজশাহী

রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি রাজশাহীর সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত শোক দিবসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ থাকলেও সকাল গড়িয়ে গেলেও বিদ্যালয়টিতে কোনো পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডটি সম্পূর্ণ শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পতাকা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে যখন সারা দেশ শোক পালন করছে, তখন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল গড়িয়ে গেলেও জাতীয় পতাকা না ওড়ানো চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন এবং জাতীয় প্রতীক ও শোক দিবসের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিশেষ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় চেতনা গঠনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দেয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন তার স্বামী শহিদুলকে বিদ্যালয়ে পাঠান এবং এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গণমাধ্যমের উপস্থিতি না থাকলে হয়তো সেদিনও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো না। ফলে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত অবহেলা নাকি দায়িত্বজ্ঞানহীন উদাসীনতা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নিয়মিত দপ্তরি বাসুদেব চন্দ্র মজুমদার অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে বিদ্যালয়ের পাশের একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়ী মহাদেব চন্দ্র মজুমদার, যিনি দপ্তরির ভাই, দপ্তরির দায়িত্ব পালন করেন। একজন বহিরাগত দোকানদার দিয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করানো কতটা বিধিসম্মত—তা নিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, “আজ সকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। দপ্তরি উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

তবে স্থানীয়দের মতে, একজন সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে শোক দিবস, জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা তার মৌলিক দায়িত্ব। দপ্তরি অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে আজ সারা দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটায় সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে এখন স্থানীয়ভাবে সমালোচনা ও তদন্তের দাবি উঠেছে।
এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অজানা ও বিস্তর তথ্য সামনে আসছে আগামী পর্বে। বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক আজকের খোলা চিঠি
Theme Customized By Shakil IT Park