
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আমির উদ্দিন বাবু
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় লাউয়ের ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে লাউয়ের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান থাকায় লাভবান হচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা বলে অভিযোগ করেছেন এক লাউচাষি।
উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে আফাজ উদ্দিন জানান, তিনি ৪৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে লাউ চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতের গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে এবং প্রচুর লাউ ধরেছে। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না তিনি।
আফাজ উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩০ দিন ধরে তিনি ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন গাছ থেকে ২০ থেকে ৩০টি লাউ সংগ্রহ করে পাইকারি বিক্রি করেন। প্রতিটি লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পান। এ টাকা থেকে ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে তেমন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
তিনি আরও জানান, পাইকারি বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে লাউ বিক্রি হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা তা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি সার ও কীটনাশক কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও লাউয়ের দাম না বাড়ায় চাষ করে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আফাজ উদ্দিনের দাবি, বাজারে লাউয়ের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তাঁর মতো কৃষকেরা উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারতেন।
কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তিনি।