
বাকিরুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহে পূর্ববিরোধের জেরে জমির সীমানা ভাঙচুর, বসতঘরে হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
উপজেলার ৪ নম্বর নাংলা ইউনিয়নের মাঝবন্দ নাংলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল জহুরুল ইসলাম (৫৫) মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে মো. মোস্তফা (৪০), মানিক জল (৪০), মো. আজম (৩০), মো. সজীব (২০), মো. শামছুল (৩৫) (২০) মিস্টার (৪০)ও মো. মঞ্জুর (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাঝবন্দ নাংলা গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া অভিযোগে আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে জহুরুল ইসলাম উল্লেখ করেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তাঁর পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা নির্ধারণ করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছিল। গতকাল ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর জমির সীমানা ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর লোকজনকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা ফের তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তাঁর স্ত্রীকে গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
এ ছাড়া ঘরে থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাজমা বেগম বলেন, “মোস্তফা ও তার লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তরা জানান সীমানা প্রাচীর আমাদের জমির মধ্যে হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়েছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”