
বাকিরুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর জরুরি বিভাগ, প্রসূতি ওয়ার্ডে কুকুর ও বিড়ালের আনাগোনা এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিও দেখে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের নিচ তলায়, দ্বিতীয় তলায়, জরুরি বিভাগ, তত্বাবধায়ক ও আবাসিক চিকিৎসকের অফিস, প্রসূতি বিভাগ। এসব কেন্দ্রের সামনে রোগী ওয়ার্ডের যাতায়াতের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে কুকুরগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ হাসপাতালটিতে ইনডোর ও আউটডোর মিলে প্রতিদিন তিনশত থেকে চারশত রোগী চিকিৎসা নেন। কেউবা হাসপাতালে ভর্তি হন চিকিৎসা নিতে। হাসপাতালটি উন্নত হলেও উন্নত হয়নি হাসপাতালটির পরিবেশ ও সেবার মান।এই হাসপাতালটি মেলান্দহ মানুষের চিকিৎসার বড় মাধ্যম হলেও সম্প্রতি হাসপাতালের ভেতরে কুকুর ও বিড়ালের আনাগোনা বেড়েছে।
হাসপাতালটির নিচতলাগুলোতে অবাধে কুকুর ও বিড়াল চলাফেরা করলেও কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও যেন নির্বিকার।জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভর্তি করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় বারবার বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।
আরিফ নামে এক ব্যক্তি বলেন, বতর্মান সরকার দেশবাসীকে সচেতন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে নানামুখী কর্মসূচি নিচ্ছে সেই মুহূর্তে হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ আনাগোনা কাম্য নয়। কারণ কুকুর জলাতঙ্ক রোগ বহন করে। সেই কুকুরগুলো হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে রয়েছে। হাসপাতালটি কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
মীম আক্তার নামে এক রোগী বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের ইমারজেন্সি ওয়ার্ড দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুর দেখে ভয় পাই। কয়েকটি কুকুর হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে আছে। তাড়ালেও সরে না। পরে অন্য পথ দিয়ে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলায় যাই আমরা।
আউটডোর রোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এত বড় একটি হাসপাতাল আর সেখানে অনায়াসে কুকুর ঢুকছে, তবে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই! হাসপাতালের নিরাপত্তা বাহিনী আনসার, ওয়ার্ড মাস্টার ও ওয়ার্ড বয়রা বসে বসে বেতন নেন, তারা কোনো কাজ করেন না। কুকুরগুলো এই হাসপাতালটির পরিবেশ নষ্ট করছে, কাউকে কাউকে কামড়াতে যাচ্ছে। তবুও এ কুকুরগুলো তাড়াতে কিংবা হাসপাতালে না ঢুকতে দেওয়ার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আগ্রহ নেই।’
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল নয়, সর্বত্রই কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। এ বিষয়ে জেলার সর্বোচ্চ মহলের সভায় আলোচনা হয়েছে। কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।’