
বাকিরুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বাজারে মেসার্স জলিল ট্রেডার্স ও মা টেডার্সে কালোবাজার থেকে সার ক্রয় করে বাড়তি দাম বিক্রি অভিযোগ উঠেছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাৎ এসব তদারকি না করে ব্যবসায়ীদের সাথে জোগসাজশ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া কালোবাজারি মাধ্যমে কিনে আনেন জলিল ট্রেডার্স এর মালিক সুলাইমান ও শফিকুল ইসলাম। প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১৪৭০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। বিক্রির সময় কৃষকদের রশিদ সরবরাহ করা হয়নি। আরেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা টেডার্স সেখানে বীজ বিক্রয়ের পাশাপাশি খুচরা সার বিক্রি করা হয়। প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১৬০০/১৭০০ টাকা বিক্রি করা হয়। সেখানেও কৃষকদের বিক্রয় রশিদ সরবরাহ করা হয় না।
প্রকাশ্যে বাড়তি দামে সার বিক্রি করলেও কোন ব্যবস্থা নেন না উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন। ব্যবসায়ীদের দাবি মহিউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে সার বিক্রি করা হয়।
মেসার্স জলিল ট্রেডার্সের মালিক সোলাইমান জানান, এক জায়গা থেকে সার কিনে এনে ১৪৭০ টাকা ধরে ইউরিয়া বিক্রি করা হয়েছে। বিতরণকালে তদারকি করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকের সুবিধার জন্য সার এনে বিক্রি করা হয়। সাংবাদিকরা যদি ঝামেলা করে তাহলে আর স্যার বিক্রি করা যাবে না। কোথায় থেকে সার কিনে এনেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সোলায়মান জানান ব্যবসার গোমড় প্রকাশ করা যাবে না। যেখান থেকে স্যার এনেছি সেখানকার পরিচয় প্রকাশ করে দিলে কখনও সার আমাদের দিবে না।
স্থানীয় কৃষক শামীম অভিযোগ করে বলেন, “আমি সোলায়মানের দোকান থেকে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১ হাজার ৭০০ টাকায় কিনেছি। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিয়েছে। সরকারি মূল্য সার পাচ্ছি না।
মা টেডার্স এর মালিক আমিনুর জানান, আমার খুচরা বিক্রি লাইসেন্স রয়েছে। সেজন্য খুচরা সার বিক্রি করি। বাড়তি দামে কেন সার বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাৎ সাথে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, বাড়তি দামে সার বিক্রি সুযোগ নেই। বাড়তি দামে সার বিক্রি অভিযোগ থাকলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। বাড়তি দামে সার বিক্রি সাথে উপর সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।