
আনিছুর রহমান আইয়ুব
অবাক বিশ্ব,পৃথিবী তাকিয়ে রয়!মানুষ কে আপন করে লয়......!
সদা হাস্যউজ্জ্বল,ভদ্রলোক, প্রতিবেশী ছোট ভাই বাড়ির পাশের একজন সঙ্গীত পিপাসু হিতৈষী শিক্ষক। তার দুই মেয়ে কেকা ও কুহু। একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে আরেকজন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ঢাকায় স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
এবারের " বিশ্ব শিশুশান্তি" নোবেল পুরষ্কারের জন্য সারা বিশ্বে ২০০ জনের মধ্যে বাংলাদেশ (জামালপুর) থেকে দুই সহোদর বোনকেই মনোনিত করা হয়েছে। তারা শুধু মাদারগঞ্জ নয় বরং পুরো বাংলাদেশের গৌরব ও সুমন অর্জন করেছে । তাদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইলো। অনেক অনেক শুভ কামনা। এ অর্জনে সর্বত্রই মানুষের ভালো বাসায় শিক্ত হয়ে প্রশংসার সাগরে ভাসছে তার দুই মেয়ে কেকা ও কুহু। সত্যি প্রসংশা র দাবীদার।
‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৫-এর মনোনয়ন পেল।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মোমেনাবাদ কুমারপাড়ার সহোদর দুই বোন কারিমা ফেরদৌসী কেকা ও কাশফিয়া জান্নাত কুহু।
কারিমা --- বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিশু সুরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ মনোনয়ন পেল।
কাশফিয়া---- গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহ রোধ ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মানজনক মনোনয়ন পেল।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে এ মনোনয়নের তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিশ্বজুড়ে ২০০ জন শিশুকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় ১১ নম্বরে রয়েছেন কাশফিয়া জান্নাত কুহু এবং ২৯ নম্বরে কারিমা ফেরদৌসী কেকা।
কারিমা ফেরদৌসী কেকা ঢাকার এ কে এম রহমত উল্লাহ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কাশফিয়া জান্নাত কুহু বালিজুড়ী রওশন আরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার শিক্ষক দম্পতি কাইউম হিলালী মাইকেল ও শিউলী খাতুন দম্পতির সন্তান। কাইউম হিলালী মাইকেল ঢাকার মগবাজার এলাকায় নজরুল শিক্ষালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মা শিউলী খাতুন ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বেরাইদ মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করা শিশুদের এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেন।
কারিমা ফেরদৌসী কেকা ছোটবেলা থেকেই সমাজ পরিবর্তনের কাজে যুক্ত আছেন। বিশেষ করে শিশুবিয়ে প্রতিরোধ, নারী-পুরুষ সমতা ও জলবায়ু সচেতনতা গড়ে তোলায়। কারিমা ফেরদৌসী কেকার মতে, নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি স্কুল, ক্লাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কাশফিয়া জান্নাত কুহু বড় বোনের অনুপ্রেরণায় যুক্ত হয়েছে শিশু অধিকার ও সামাজিক সচেতনতার কাজে। শিশুবিয়ে রোধ, লিঙ্গ সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই তার কাজের মূল লক্ষ্য।
মাদারগঞ্জ : কিডস রাইটস ফাউন্ডেশনের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কারিমা ফেরদৌসী কেকা ও কাশফিয়া জান্নাত কুহু সাফল্যে মনোনয়ন প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে কাশফিয়া জান্নাত কুহু বলেন, আমি জানতামই না আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সকালে আপু জানালে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের খবর।
কারিমা ফেরদৌসী কেকা দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা। আমরা চাই আমাদের কাজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক। এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবার দোয়া কামনা করছি।
দুই মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দিত তাদের বাবা কাইউম হিলালী মাইকেল ও মা শিউলী খাতুন। কাইউম হিলালী মাইকেল দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, বিশ্বের শিশুদের মধ্যে আমার দুই মেয়ে মনোনয়ন পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য বিশাল গর্বের বিষয়।
২০০৫ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ বিশ্বজুড়ে শিশু অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদান রাখা তরুণদের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিশু অধিকার পুরস্কার, যা অতীতে পেয়েছেন মালালা ইউসুফজাই, গ্রেটা থুনবার্গসহ বিশ্বজুড়ে শিশু আন্দোলনের অগ্রণীরা।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার মনোনীত হয়েছেন মাদারগঞ্জের সহোদর দুই বোন কারিমা ফেরদৌসী কেকা ও কাশফিয়া জান্নাত কুহু।