বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে দলটি একটি কঠোর নীতি অনুসরণ করছে—বর্তমান সংসদ সদস্যদের (এমপি) স্ত্রী, কন্যা বা পরিবারের কোনো সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে সংসদে না আনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্চ মাসজুড়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল গণমাধ্যমকে বলেন, “জামায়াতে আগে থেকেই একটি নীতি রয়েছে—যাঁরা সংসদ সদস্য হবেন, তাঁদের পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন না।”
আগামী ১২ মে ২০২৬ সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াত পাবে ১২টি এবং বাকি ১টি আসন পাবে জোটসঙ্গী এনসিপি। যদিও এনসিপি আরও একটি আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। জোটের অন্যান্য শরিক, যেমন —তাদের জন্য আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি , শিক্ষক এবং আইনজীবী -এর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রার্থী নির্বাচনে দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে ১২ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে পরিবারতন্ত্র এড়িয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পান এবং জোটের আসন বণ্টন কোন পর্যায়ে গিয়ে চূড়ান্ত হয়।