
জসিম উদ্দিন কক্সবাজার
কক্সবাজারের রামু উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টয়লেট নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না, ফলে নির্মিত টয়লেটগুলোর স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, কণা, অপর্যাপ্ত সিমেন্ট, নিম্নমানের রড (লোহা) এবং অতিরিক্ত বালি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকী এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত প্রকৌশল মান বজায় না রেখেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রামু উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল। তবে তিনি সরাসরি কাজ পরিচালনা না করে সাইট কন্ট্রাক্টর ও সাইট ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অদক্ষ ও স্বল্পমজুরির রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে যেখানে অন্তত ১৫ বস্তা সিমেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজন, সেখানে বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র ৮ বস্তা। একইভাবে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য অন্তত ৩০টি রড ব্যবহারের প্রয়োজন হলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০টি। পাশাপাশি নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও দাবি, অতিরিক্ত বালি মিশিয়ে কাজ করায় টয়লেটগুলোর স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর EMCRP প্রকল্পের আওতায় ঈদগড় ইউনিয়নে ৭০০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্রকল্পের কাজেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছিল। বর্তমানে HELP প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নে প্রায় ৮০০টি টয়লেট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং সেখানেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এসব টয়লেট দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য রামু উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলী নেতা অভিযুক্ত ঠিকাদার (কট্রাক্টর):ইব্রাহিম খলিলের কাছে জানতে চাইলে অভিযোগ মিথ্যা বলে ফোন কেটে দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল বলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।