
যবিপ্রবি প্রতিনিধি: আল আমিন
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলে ধূমপান, মাদক ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের সেবন, বহন ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে হলের ভেতরে মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সরবরাহকারীকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর— যবিপ্রবি/মুমেহ/বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত/২০২৪-১৪৮।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হলের অভ্যন্তরে ধূমপানের পাশাপাশি মদ, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য হলের সীমানায় বহন বা সংরক্ষণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, বহন কিংবা সংরক্ষণ অবস্থায় হাতেনাতে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Rules of Discipline for Students’ অনুযায়ী কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হলের কোনো শিক্ষার্থী মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, বহন কিংবা সংরক্ষণ করছে—এমন তথ্য উপযুক্ত প্রমাণসহ হল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করা হলে তথ্যদাতাকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক ও ধূমপানের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং হলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মুন্সী মেহেরুল্লাহ হল প্রশাসনের মাদকবিরোধী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি নয়, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে হলকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত আবাসিক পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।