
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
নিজের অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ সার্টিফিকেটের জালিয়াতি আড়াল করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল'-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম অগ্রসরে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন স্বঘোষিত প্যাব নেতা ওয়াসিউর রহমান।
অনুসন্ধান ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওয়াসিউর রহমান কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে পাস করার পর বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোনো প্রকার যোগ্যতা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে ভর্তি হয়ে ফিজিওথেরাপি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে তার এই অনৈতিক ভর্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ সনদ জালিয়াতির বিষয়টি সবার সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়বে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও নিজের অবৈধ সার্টিফিকেট বাতিলের ভয় থেকেই তিনি সুকৌশলে কাউন্সিলের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য চারদিক থেকে অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন, যেন এই কাউন্সিলের কঠোর যাচাই-বাছাই তার নিজের জন্য কোনো বড় বিপদ ডেকে না আনে।
এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে তার এই অবৈধ সার্টিফিকেট বাতিলসহ অন্যান্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার এই ডিগ্রির আসল রহস্য এবং রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলকে থামিয়ে রাখার নেপথ্যের অপচেষ্টা উন্মোচিত হবে। এই অনৈতিক সুবিধাভোগী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এখন প্রফেশনের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওয়াসিউর রহমানের এই ধরনের জালিয়াতি ও অপকর্মের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। প্রফেশনের ভেতরে থাকা আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এসব অনৈতিক কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন বলে তথ্য মিলেছে।
এদিকে, এই জালিয়াতি আড়াল করার অংশ হিসেবেই তিনি বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের এক ইন্টার্ন শিক্ষার্থীকে টার্গেট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আল আমিনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকি দেওয়ার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও ভয়ের আশঙ্কায় ভুগছেন। নিজেকে তিনি ‘ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (প্যাব)-এর নেতা দাবি করে বর্তমান সরকারের সুনাম নষ্ট করার পায়তারা এবং চাঁদাবাজির অপচেষ্টা চালালেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি মূলত এই সংগঠনের কোনো অনুমোদিত সদস্যই নন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আল আমিন এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনকে (বিপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত স্বঘোষিত প্যাব নেতা ওয়াসিউর রহমানের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। যবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই ভুয়া নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।