
শংকর দাস পবন, স্টাফ রিপোর্টার
বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। আর এই সময় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার ভিমরুলীর ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা হাট। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেয়ারার মৌসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত পর্যটক ছুটে আসছেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ভিমরুলী, আটঘর, কুড়িয়ানা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খাল-বিলের পানিতে নৌকায় ভেসে চলে পেয়ারা কেনাবেচা। একদিকে সারি সারি সবুজ পেয়ারা বাগান, অন্যদিকে পানির ওপর নৌকায় সাজানো ভাসমান হাট—সব মিলিয়ে তৈরি হয় গ্রামবাংলার এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এই অনন্য দৃশ্য সহজেই আকৃষ্ট করছে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভোর থেকেই বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে নৌকায় করে হাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পর্যটকরাও সরাসরি তাজা পেয়ারা কিনে নেন। এতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি ভাসমান পেয়ারা হাটকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও জমে ওঠে।
ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকেই জানান, পানির ওপর নৌকায় ভেসে পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখা এবং ভাসমান হাটের কর্মচাঞ্চল্য উপভোগ করা তাদের জন্য ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের এমন সমন্বিত দৃশ্য দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র থেকে একে আলাদা করেছে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “ছবিতে ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারা হাট অনেকবার দেখেছি। তবে সরাসরি এসে এর সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করছি। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি অসাধারণ একটি স্থান।”
বরিশাল থেকে পরিবার নিয়ে আসা আরেক পর্যটক বলেন, “পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। নৌকায় ঘুরে পেয়ারা বাগান দেখা ও তাজা পেয়ারা খাওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম।”
খুলনা থেকে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, “এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। সুযোগ পেলে আবারও এখানে আসতে চাই।”
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারা হাটে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। পেয়ারা মৌসুমে হাটকে ঘিরে স্থানীয়দের কর্মচাঞ্চল্যও বেড়ে যায়। পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ভিমরুলীর এই ভাসমান পেয়ারা হাট দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করতে পারে।