
পোরশা(নওগাঁ) প্রতিনিধি:
যুগের পরিবর্তন ও প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর পালপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। শত বছরের বংশপরম্পরায় চলে আসা এই হস্তশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
একসময় যে মৃৎশিল্পীদের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলস, সানকি ও মাটির খেলনার কদর ছিল নিত্যদিনের ব্যবহারে, এখন বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও বিশেষ উৎসব ছাড়া সেগুলোর দেখা আর মেলেই না।
নিতপুর পালপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পী অনিল পাল, মদন পাল ও সুকুমার পাল চরম হতাশা প্রকাশ করে জানান, বংশানুক্রমে তারা এই পেশার সাথে যুক্ত আছেন। একসময় মাটি দিয়ে জিনিসপত্র বানিয়ে বিক্রি করেই তাদের সংসার স্বাচ্ছন্দ্যে চলত। কিন্তু বাজারে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইনের সস্তা ও টেকসই পণ্যের দাপটে মাটির তৈরি জিনিসের কদর দিন দিন একেবারেই কমে গেছে।
মৃৎশিল্পী সুকুমার পাল বলেন, "আগে আমাদের কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকত। দিন-রাত মাটির কাজ করতাম। এখন আর সেই দিন নেই। প্লাস্টিক আসার পর থেকে মানুষ আর মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করতে চায় না। এখন শুধু বৈশাখী মেলা, পূজা বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান এলেই মাটির জিনিসের কিছুটা চাহিদা তৈরি হয়। বছরের বাকি সময়টা অলস বসেই কাটাতে হয়।"
মদন পাল ও অনিল পাল আক্ষেপ করে জানান, একদিকে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া, অন্যদিকে মাটি সংগ্রহ ও জ্বালানির খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন এই পেশায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। আয়ের পথ সুগম না থাকায় তাদের নতুন প্রজন্মও আর এই পৈতৃক পেশায় আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে মৃৎশিল্পীদের স্বল্পসুদে সরকারি ঋণ সহায়তা, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি মেলায় তাদের তৈরি পণ্যের প্রচার ও বিক্রির ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে অচিরেই নওগাঁর এই প্রাচীন শিল্প চিরতরে হারিয়ে যাবে।