
বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিক সরাসরি আঙুল তুলছেন তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর দিকে।
তাদের অভিযোগ, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কেবল আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে নয়—অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সিন্ডিকেট প্রভাব এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়াও এর পেছনে বড় কারণ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সমালোচকদের ভাষায়, “মূল্যবৃদ্ধি যদি পরিকল্পিতভাবে বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘটে, তাহলে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।” অনেকেই আরও অভিযোগ করছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে তুলনা টানা হচ্ছে অতীতের সঙ্গে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরে সমালোচকরা দাবি করছেন—বর্তমান অস্থিরতা অনেক ক্ষেত্রেই বেশি প্রকট। যদিও এ ধরনের তুলনা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।
এদিকে ঋণখেলাপিদের বিষয়ে শিথিলতা এবং প্রশাসনের কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, “যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি সরাসরি জনগণের জীবনের সঙ্গে জড়িত। তাই যে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে—তারা কতটা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে পারছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।