
মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টা,
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বনবিট এখন কাঠ চোরাকারবারি চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও রেঞ্জ বনবিট এলাকায় রাত নামলেই নিধন করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনায়নের গাছপালা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আঁতাত করে বনের রকমারি গাছ নিধনে নেমেছে কিছু চোরাকারবারি চক্র। একইসঙ্গে বনবিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই ঈদগাঁও বনবিটের অধীন বিভিন্ন এলাকার বনভূমি ধ্বংস করে গড়ে উঠছে স্থায়ী বসতবাড়ি। সেই সঙ্গে কাটা হচ্ছে পাহাড়, লুট হচ্ছে বনভূমির জায়গা থেকে বালু।
অভিযোগ উঠেছে বন, পাহাড় ও বালুখেকোদের কাছ থেকে অতিরিক্ত উৎকোচ আদায় করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বনবিভাগ এবং স্থানীয় দালাল ও কাঠ চোর সিন্ডিকেটের ত্রিপক্ষীয় যোগসাজশে ব্যাপক কাঠ পাচার হয় কক্সবাজার ঈদগাঁও বাজারে বনবিট কর্মকর্তার সামনে দিয়ে। প্রতিদিনই ভ্যানগাড়ি, পিকআপ, ট্রাক ভর্তি করে হাজার হাজার টাকার মূল্যবান কাঠ কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পরে বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাহিদা মাফিক টাকা দিয়ে স্টেশন অতিক্রম করতে হয়। এভাবে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে জানা গেছে। এতে করে পাচারকারীরা অবাধে কাঠ পাচার করতে পারায় কক্সবাজার ঈদগাঁওতে বিশাল বনভূমি দিন দিন বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।
কক্সবাজার ঈদগাঁও বনবিট এলাকা দিয়ে গাছ নিয়ে আসতে হলে ঈদগাঁও বনবিট কর্মকর্তারদের চাঁদা দিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, বনবিভাগ ও তাদের দালালদের চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি অনেক পুরনো ব্যাপার। যারা বৈধভাবে গাছ নিয়ে আসছে তাদেরও টাকা দিতে হচ্ছে। আবার যারা অবৈধভাবে নিয়ে আসছেন তাদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে চাঁদা।
একজন ডাম্পারচালক জানান, কাঠবাহী গাড়ি ঈদগাঁও রেঞ্জ বনবিট এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই স্টেশনে কাঠের ক্যাটাগরি অনুযায়ী টাকা দিতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও বনবিটের অধীন এলাকায় বনভূমিতে ইতিমধ্যে বাড়ির কাজ চলমান এসব বাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়ে জায়গা ভেদে কারও কাছে ২০ হাজার আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে বনকর্মীরা।
এসব অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন ঈদগাও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উজ্জল হোসাইন তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। আমি এ ধরনের অনিয়ম-অসঙ্গতির সঙ্গে জড়িত নেই।’
জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: মারুফ হোসেন বলেন, ‘অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’