
আরিয়ান খান
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঈদগাঁও মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল-এ চিকিৎসা অবহেলায় সোহানা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটি জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব লরাবাক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকিব ও শারমিন আক্তারের একমাত্র কন্যা।
সর্দি-কাশি নিয়ে হাসপাতালে, শেষমেশ মৃত্যু
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রবিবার (১২ জুলাই) সামান্য সর্দি-কাশি হওয়ায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুর চিকিৎসা করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলাম। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলে পরদিন (১৩ জুলাই) আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে যান শিশুর বাবা-মা।
ডা. নজরুল ওইদিন শিশুকে ইনজেকশনের মাধ্যমে Eryxion 1g (Ceftriaxone) নামক একটি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার নির্দেশ দেন।
‘এক মিনিটে পুশ’ করে দেওয়া হয় ইনজেকশন
শিশুটির মা-বাবার ভাষ্যমতে, ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন সংগ্রহ করার পর দায়িত্বরত নার্স জোসনা আক্তার তা মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দ্রুত পুশ করে দেন। এতে শিশুর হাতে ফোলাভাব দেখা দেয়। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে নার্স বিষয়টি সাধারণ ঘটনা বলে দাবি করে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বাসায় ফেরার পথে শিশুটির খিঁচুনি শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আবারও ঈদগাঁও মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুর পিতা মোহাম্মদ শাকিব বলেন,
“আমার সন্তানের কোনো জটিল সমস্যা ছিল না। নার্সের অদক্ষতা এবং ইনজেকশন দ্রুত প্রয়োগের কারণেই আমার একমাত্র মেয়ে মারা গেছে।”
‘দ্রুত পুশে ঝুঁকি থাকে’, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ঈদগাঁওয়ের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের এক এমবিবিএস চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“Eryxion 1g ইনজেকশন কখনোই এক মিনিটে পুশ করা উচিত নয়। এটি কমপক্ষে ১০–২০ মিনিট সময় নিয়ে ধীরে প্রয়োগ করতে হয়। দ্রুত পুশ করলে মারাত্মক রিঅ্যাকশন হতে পারে – যা শিশু বা বড়, কারো জন্যই নিরাপদ নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“এভাবে অদক্ষ বা ট্রেনিংবিহীন নার্সদের ইনজেকশন পুশ করার দায়িত্ব দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। প্রতিটি হাসপাতালে দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত নার্স নিশ্চিত করতে হবে।”
শিশুর চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম জানান,
“শিশুর প্রথম অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। ইনজেকশন কিভাবে পুশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে Eryxion ইনজেকশন দ্রুত প্রয়োগে প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এটা সত্য।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা নার্সের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।